ফোন ধরার পর ঠিক কী বলবেন, এখানে সহজ করে লেখা আছে। পাঁচটি কথা বলুন। বাকি প্রশ্ন ডিসপ্যাচার করবেন।
আমরা ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের ৭ দিন খোলা। আগে কল করুন, এই পাতা পরে পড়লেও চলবে।
এটি চিকিৎসার পরামর্শ নয়। এখানে শুধু লেখা আছে, ফোনে কী বলবেন।
কল করলে এই ৫টি কথা বলুন
ভয়ের সময় কথা এলোমেলো হয়ে যায়। সেটা স্বাভাবিক। তাই ক্রমটা মনে রাখুন: নাম, অবস্থা, জায়গা, গন্তব্য, প্রয়োজন। ডিসপ্যাচার এই ক্রমেই প্রশ্ন করেন। আপনি আগে বললে কলটা ছোট হয়।
- আপনার নাম ও ফোন নম্বর। বলুন, “আমি রহিম বলছি। এই নম্বরেই ফোন খোলা থাকবে।” লাইন কেটে গেলে ডিসপ্যাচার আপনাকে ফিরতি কল করতে পারেন।
- রোগীর বর্তমান অবস্থা। এক বাক্যে বলুন। রোগীর জ্ঞান আছে কি না, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না। এটা জানলে ডিসপ্যাচার সঠিক গাড়ি ঠিক করতে পারেন।
- এখন কোথায় আছেন। এলাকা, রোড আর পাশের পরিচিত জায়গার নাম বলুন। এই ঠিকানা ধরেই নিকটস্থ খালি অ্যাম্বুলেন্স পাঠাই। এলাকার তালিকা দেখতে পারেন ঢাকার সব এলাকা পাতায়।
- কোন হাসপাতালে যাবেন। হাসপাতালের নাম বলুন। জানা থাকলে বিভাগ বা ওয়ার্ডও বলুন। আমরা রোগীকে সেখানে পৌঁছে দিই। গন্তব্য জানলে পথ আর ভাড়া হিসাব করা যায়।
- কী লাগবে। অক্সিজেন লাগবে কি না বলুন। স্ট্রেচার না হুইলচেয়ার, তা-ও বলুন। কয়জন সঙ্গে যাবেন, সেটাও জানান। চিকিৎসক যা বলেছেন, সেটাই বলুন।
কোনোটা না জানলে যা দেখছেন, তা-ই বলুন। বাকিটা ডিসপ্যাচার জিজ্ঞেস করবেন।
ঠিকানা বলার সহজ নিয়ম
ঠিকানা ভুল হলে গাড়ি ভুল গলিতে ঢুকতে পারে। তাই বড় থেকে ছোট ক্রমে বলুন।
- প্রথমে এলাকার নাম বলুন, যেমন মহাখালী বা মিরপুর।
- তারপর রোড, ব্লক বা বাড়ির নম্বর বলুন।
- এরপর পাশের পরিচিত জায়গা বলুন, যেমন মসজিদ, মোড় বা দোকান।
- শেষে কত তলায় আছেন আর লিফট আছে কি না, জানান।
নম্বর ধীরে বলুন। দরকার হলে ঠিকানা আবার বলুন। ডিসপ্যাচার একবার পড়ে শোনালে মিলিয়ে নিন।
রোগীর অবস্থা এক বাক্যে
লম্বা ইতিহাস বলার দরকার নেই। যা এখন ঘটছে, তা বলুন। যেমন, “রোগীর জ্ঞান আছে, কিন্তু কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে।” চিকিৎসক কী বলেছেন, তা জানা থাকলে সেটাও বলুন। নিজের অনুমান জুড়বেন না।
কল কেটে গেলে
নেটওয়ার্ক চলে গেলে আবার কল করুন। ডিসপ্যাচারও আপনাকে ফিরতি কল করতে পারেন। তাই কল কাটার পর ফোন হাতের কাছে রাখুন। অন্য কাউকে ফোন দিয়ে দেবেন না।
৩০ সেকেন্ডের নমুনা কথোপকথন
নামগুলো উদাহরণ মাত্র। আপনার কথাও এমন ছোট হতে পারে।
- আপনি: আমি রহিম বলছি। এই নম্বরেই ফোন খোলা থাকবে।
- আপনি: রোগীর জ্ঞান আছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
- ডিসপ্যাচার: আপনি এখন কোথায় আছেন?
- আপনি: মহাখালী, রোড ৫, মসজিদের পাশে। তিন তলায়, লিফট আছে।
- আপনি: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাব। অক্সিজেন আর স্ট্রেচার লাগবে।
- ডিসপ্যাচার: ঠিক আছে। যাওয়ার আগে ভাড়া জানিয়ে দিই।
এখানে ছয়টি ছোট লাইনে পাঁচটি কথাই বলা হয়েছে। আপনার কথা এর চেয়ে ছোট বা বড় হলেও ক্ষতি নেই। মূল বিষয়গুলো বলা হলেই হলো। ডিসপ্যাচার বাকিটা জেনে নেবেন।
ডিসপ্যাচারকে যা জিজ্ঞেস করবেন
কলের শেষে এই পাঁচটি প্রশ্ন করুন। উত্তর শুনে নিন। কিছু না বুঝলে আবার জিজ্ঞেস করুন। লজ্জা পাবেন না। ডিসপ্যাচার এসব প্রশ্নের জন্যই ফোনে আছেন।
- ভাড়া আগে জানাবেন কি না। আমরা যাওয়ার আগে ভাড়া জানিয়ে দিই। মোট ভাড়া কত, সেটা জিজ্ঞেস করুন।
- আনুমানিক কত সময় লাগবে। গাড়ি কত সময়ে পৌঁছাবে, তা জেনে নিন।
- কোন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে। সাধারণ, এসি, না আইসিইউ, তা বুঝে নিন।
- কে সঙ্গে যাচ্ছে। গাড়িতে কে কে থাকবেন, জেনে নিন।
- ফোনে কীভাবে যোগাযোগ থাকবে। গাড়ি পথে থাকলে কোন নম্বরে কথা হবে, তা জিজ্ঞেস করুন।
অপেক্ষা করার সময় কী করবেন
শুধু গোছগাছের কাজ করুন। গাড়ি এলে এসব তৈরি থাকলে সুবিধা হয়। এখানে কোনো চিকিৎসার কাজ নেই।
- ফোন খোলা রাখুন। ডিসপ্যাচার ফিরতি কল করতে পারেন।
- কাগজপত্র একসাথে রাখুন। রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন আর পরিচয়পত্র এক জায়গায় রাখুন।
- গেটে একজনকে দাঁড় করান। বাড়ি বা ভবনের মুখে একজন থাকুক। সে গাড়িকে পথ দেখাবে।
- হাসপাতালে জানিয়ে রাখুন। কখন পৌঁছাচ্ছেন, সেটা সঙ্গের একজন জানিয়ে দিন।
- সঙ্গে যাওয়ার লোক ঠিক করুন। কে যাবেন, আগেই ঠিক করুন। রোগীর কাগজ তাঁর হাতে দিন।
- ভাড়ার জন্য তৈরি থাকুন। ভাড়া জানার পর কে মেটাবেন, তা পরিবারে ঠিক করে নিন।

ইংরেজিতে পড়তে চাইলে দেখুন English guide।
কোন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স লাগবে
কোন গাড়ি লাগবে, তা চিকিৎসকের কথা শুনে ঠিক করুন। না বুঝলে ডিসপ্যাচারকে জিজ্ঞেস করুন। রোগীর অবস্থা শুনে তিনি গাড়ির ধরন বুঝিয়ে বলবেন। সব ধরনের জন্য একই হটলাইন। জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস পাতায় আরও দেখুন।
- আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যার রোগীর জন্য। লাগবে কি না, চিকিৎসক বলবেন।
- এসি অ্যাম্বুলেন্স। রোগীকে আরামে নেওয়ার জন্য। গরমে বা দূরের পথে অনেকে এটি বেছে নেন।
- লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি। প্রিয়জনের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য। এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি।
এই গাইডের ছবিগুলো উদাহরণ হিসেবে এআই দিয়ে তৈরি। এগুলো আমাদের গাড়ি বা কর্মীর ছবি নয়।


